রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫০ পূর্বাহ্ন
ইরান পারমাণবিক শক্তি ছোঁয়ার দ্বারপ্রান্তে—বিশ্ব শঙ্কায়!
অনলাইন ডেস্ক
ইরান মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা আইএইএ-এর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি। শনিবার (২৮ জুন) এক আলোচনায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র ধ্বংস হয়নি পুরোপুরি—তাই সংঘর্ষ নয়, কূটনীতিই এখন প্রধান পথ। খবর গণমাধ্যম।
সম্প্রতি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের তিনটি কৌশলগত পরমাণু স্থাপনায় বোমাবর্ষণ হয়। তবে সেগুলো ধ্বংস হয়নি পুরোপুরি বলে দাবি গ্রোসির। তার এই বক্তব্য সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের বক্তব্যের বিরোধিতা করে, যেখানে তিনি বলেছিলেন—‘ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলো মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
১৩ জুন ইসরায়েল প্রথম ইরানের কিছু পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ফোরদো, নাতানজ ও ইসফাহানে বোমাবর্ষণ করে। তবে এসব হামলা নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে মিশ্র বার্তা এসেছে।
সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির কিছু হয়নি’, আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানান, ‘প্রতিষ্ঠানগুলোতে গভীর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’ আইএইএ জানিয়েছে, হামলার পরও ইরান চাইলে দ্রুত সেন্ট্রিফিউজ চালু করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ফের শুরু করতে পারবে।
পেন্টাগনের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই হামলা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে মাত্র কয়েক মাস পিছিয়েছে। ট্রাম্প বলেন, মিডিয়া তার অভিযানকে খাটো করে দেখাচ্ছে এবং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করলে ফের হামলা চালানো হবে।
এ ঘটনার পর ইরান পার্লামেন্টের মাধ্যমে ঘোষণা দেয়, তারা আইএইএ-এর সঙ্গে আংশিক সহযোগিতা স্থগিত করছে। অভিযোগ, সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের পক্ষ নিচ্ছে। যদিও আইএইএ বলছে, দুই দশকে এবারই প্রথম ইরান পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি ভঙ্গ করেছে।
তবে ইরান বারবার বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল শান্তিপূর্ণ বেসামরিক কাজেই ব্যবহৃত হচ্ছে